Jannater Bornona জান্নাতের বর্ননাঃ মুহাম্মদ ইকবাল কীলানী Free Download Islamic Books Pdf

Jannater Bornona জান্নাতের বর্ননাঃ মুহাম্মদ ইকবাল কীলানী

এ পৃথিবীতে মানুষ দুই দিনের এক মুসাফির।মহান আল্লাহপাক মানুষকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন এক মাত্র তার ইবাদাতের জন্য এবং সমাজের কল্যান সাধনের জন্য।এ লক্ষ্যে তিনি তাদের কাছে নবী রাসূলগনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাঠিয়েছেন।যারা সেই দিকনির্দেশনা অনুযায়ী জীবনযাপন করে নি তাদের জন্য আল্লাহ জাহান্নাম তৈরী করে রেখেছেন।জাহান্নাম বড় কষ্টের জায়গা।সেখনে পদে পদে পাপীদেরকে লাঞ্চনা এবং শাস্তি প্রদান করা হবে।অপরদিকে, যারা আল্লাহপাকের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী জীবনযাপন করেছে তাদের জন্য আল্লাহ জান্নাত সৃষ্টি করেছেন।সেখানে এত অফুরন্ত নেয়ামত আল্লাহপাক তাদের জ্ন্য রেখেছেন যে মুমিন বান্দারা কল্পনাও করতে পারবে না।বেহেশত ফার্সি শব্দ।আরবীতে একে জান্নাত বলা হয়।বাংলায় এর অর্থ হচ্ছে স্বর্গ বা স্বর্গোদ্যান।সুখ, স্বাচ্ছন্দ, সাজগোজ,সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে জান্নাতের প্রকৃত স্বরুপ মানব মস্তিষ্কের চিন্তার বাইরে।
হযরত আবু হোরায়রাহ (র:) বলেন, আমরা নবীজি (স:) এর কাছে আরজ করলাম, জান্নাত কি দিয়ে তৈরী?তিনি বললেন, এটি পানি দিয়ে তৈরী।আমরা বললাম, আমরা তার অট্টালিকা সমূহ িনর্মানের বিষয় জানতে চাই।তিনি বললেন, জান্নাতের একচট ইট স্বর্ণের অপরটি রৌট্যের। আর তার প্রলেপ হবে মেশকের। এর মাটি হবে জাফরান আর কংকর মুক্তা ও ইয়াকুতের।যে জান্নাতে প্রবেশ করবে সে কোন নিয়ামত থেকে নিরাশ বা বঞ্চিত হবে না।সে অনন্ত কাল সেখানে অবস্থান করবে।তার পরিধেয় পোশাক পরিচ্ছদ কখনও পুরোন হবে না।তার যৌবন চিরকাল একই রকম থাকবে।জান্নাতের ভিত্তি স্বর্ণ ও রৌপ্য দ্বারা নির্মিত।ব্যবহৃত তৈজসপত্র স্বর্ণ দ্বারা নির্মিত।এর জলপ্রপাতগুলো দিগন্ত বিস্তৃত সুগন্ধ বিলাবে।তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকবে ঝর্ণাধারা।এতে দুধ ও মধুর মিশ্রন থাকবে।রাসূলে পাক (ষ:) বলেছেন,জান্নাতে একটি গাছ রয়েছে যার ছায়ায় জান্নাতীরা শত বছর চলার পরও সে ছায়া অতিক্রম করতে সমর্থ হবে না।হযরত ইবনে আব্বাস (র:) বলেন, রাসূল (স:) বলেছেন, জান্নাতে লায়লা নামে এক সুন্দরী হুর থাকবে, যাকে ৪টি বস্তুর সংযোগে সৃষ্টি করা হয়েছে। যেমন-
১.মেশক(মৃগনাভী),
২.আম্বর(এক প্রকার সুগন্ধি দ্রব্য),
৩.কর্পূর(এটা অতি পবিত্র দ্রব্য),
৪.জাফরান(এটাও অতি পবিত্র)
হযরত আবু হোরায়রাহ (রা:) বলেন, রাসূল (স) বলেছেন, জান্নাতী ব্যাক্তির রূপ লাবন‌্য উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকবে। যেভাবে ইহজগতে ক্রমে ক্রমে বার্ধক্য চলে আসে, সেখানে তেমনি ক্রমান্বয়ে তাদের রূপ লাবন‌্য বাড়তেই থাকবে।
জান্নাতে মুমিন বান্দাদের পুরুস্কার স্বরূপ স্ত্রী হিসেবে তাদেরকে হুরপরীগনদের দেয়া হবে।তাদের রূপ লাবন্য এত চমৎকার,এত চিত্তাকর্ষক,এত মনোহর হবে যে, তাদের রূপের জ্যোতিতে সমগ্র জান্নাত উজ্জল হয়ে উঠবে।তাদের পরিধেয় পোশাক স্বর্ণ-হীরার মতো জাকজমকপূর্ন হবে।হাদীস শরীফে আছে, যদি কোন জান্নাতী হুর আসমান থেকে তার হাতের তালু দনিয়ার দিকে খুলে ধরে তবে গোটা বিশ্ব জগৎ সমুজ্জল হয়ে উঠবে।
তবে জান্নাতে মুমিন বান্দাদের সবচেয়ে বড় পুরুস্কার হবে মহান আল্লাহপাকের দীদার লাভ করা।হযরত আনাস বিন মালেক (র) থেকে বর্ণিত, একবার জিব্রাইল (আ:) একটি শুভ্র আয়না নিয়ে রাসূল (আ:)এর নিকট আগমন করলেন,তাতে একটি কাল দাগ বিরাজ করছিল।তিনি বললেন, হে জিব্রাইল!এটি কিসের আয়না?
জিব্রাইল বললেন, এটি জুমআর দিন সদৃশ।এর কালো দাগটি প্রতি জুমআর দোয়া কবুলের প্রতীক।আপনাকে ও আপনার উম্মতদেরকে এর দ্বারা অন‌্যান্য নবী ও উম্মতের উপর প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এই জুমআর দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোন দোয়া কবুল হয়ে থাকে।কিন্তু আমাদের কাছে এ একটি অতিরিক্ত দিন।নবিজী জিগ্গেস করলেন, অতিরিক্ত দিনের অর্থ কী?জিব্রাইল বললেন, আল্লাহ জান্নাতে মেশকের একটি টিলা বিরাজমান রয়েছে। প্রতি জুমআয় অই টিলায় একটি নূরের মিম্বর স্থাপন করা হনব।তার উপর নবীগন আসীন হবেন।আর কতকগুলো সুদ্ৃশ্যময় টিলায় জান্নাতীগন আসন গ্রহন করবেন।অতঃপর সবাই মিলে আল্লাহর প্রশংসা করবেন।
তখন আল্লাহ বলবেন, তোমাদের কি চাওয়ার আছে, চাও।সবাই বলবেন, আমরা আপনার সন্তুষ্টি কামনা করছি।আল্লাহ বলবেন, আমি তোমাদের ওপর সন্তুষ্ট আছি।আমি তোমাদেরকে আমার স্থানে বসবাস করতে দিয়েছি এবং নিজ তরফ তথকে তোমাদের সম্মান করছি।অতঃপর আল্লাহপাকের জ্যোতি প্রকাশ পাবে এবং তারা অবলোকন করবে। সুতরাং এ দিনে তাদের সম্মান বৃদ্ধি পাবার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কাছেজুমআর দিন থেকে বেশী প্রিয় কোনটি নেই।অপর এক বর্নণায় আছে, আমার প্রিয়জনদেরকে আহার করাও। তখনি ফেরেশতাগণনানারূপ খাদ্যদ্রব্য হাজির করবেন এবং জান্নাতীরা তার প্রতিটি লোকমায় নতুন নতুন স্বাদ উপভোগ করবে।তারপা আল্লাহর আদেশে পানীয় দ্রব্যাদি হাজির করা হবে এবং তার প্রতিটি ঢোকে নতুন নতুন স্বাদ অনুভূত হবে। তারপর পানাহার শেষে আল্লাহপাক তাদেরকে বলবেন, আমি তোমাদের প্রভু, আমি তোমাদের কাছে যে ওয়াদা করেছিলাম আমি তা পুরা করেছি।এখন আরও যা কিছু চাইবে তাও দেয়া হবে।আল্লাহর বান্দারা বার বার আবেদন জানাবে যে, আমরা আপনার সন্তোষ কামনা করি।আল্লাহ বরবেন, আমি তোমাদের প্রতি সন্তষ্ট আছি এবং আমার নিকট আরও কিছু রয়েছে।আজ আমি দতামাদেরকে এমন নেয়ামত দেব যা অইসব সনয়ামত থেকে উত্তম।অতঃপর পর্দা তুলে নেয়া হবে এবং সবাই আল্লাহর জ্যোকি বলোকন করবে এবং তারা তৎক্ষনাৎ সিজদায় পতিত হবে। আল্লাহর পুন: নির্দেশ হওয়া পর্যন্ত তারা এই অবস্থায় থাকবে।তারপর আল্লাহ বলবেন, মস্তক তোল, এটা ইবাদাতের স্থান নয়। জান্নাতীরা আল্লাহর সাক্ষাৎ লাবে সব নিয়ামত ভুলে যাবে।তখন তার আরশের নিচ থেকে স্নিগ্ধ বাতাস প্রবাহিত হতে থাকবে।যখন তারা নিজ নিজ গৃহে ফিরে যাবে তখন তাদের স্ত্রীগণ বলবে যে, আপনারা তো আরও বেশি রূপ লাবন্যযুক্ত হয়ে এসেছেন।জান্নাত সর্বাধিক মূল্যবান জিনিস। তাই তা সংগ্রহের আপ্রাণ ও জোরদার চেষ্টা চালানো উচিত। তাকওয়া মূলত: জান্নাত লাভের উপায় এবং তা অর্জনের জন্য বাস্তব চেষ্টা ও পরিশ্রমের বাস্তব প্রশিক্ষণ।

 

Download Link 1

Download Link 2

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *