আল-কোরআনের বাংলা অনুবাদ (Al-Quran Bangla) Free download Pdf

আল-কোরআনের বাংলা অনুবাদ (Al-Quran Bangla)

আল কোরআন গোটা বিশ্ববাসীর জন্য পথনির্দেশক। বিশ্বমানবতার মুক্তির সোপান। যার ছোঁয়ায় দিকহারা, ভ্রান্ত, তৎকালীন দুর্ধর্ষ আরব জাতি পেয়েছিল সিরাতুল মুস্তাকিম তথা চির শাশ্বত শান্তির ঠিকানা। কিয়ামত অবধি আগত প্রতিটি ব্যক্তি যার পরশে হয়ে উঠতে পারে সোনার চেয়ে শতগুণ দামি।

‘কোরআন’ আরবি শব্দ। শব্দটি দুটি ধাতু থেকে উৎকলিত। প্রথমত, ‘কারউন’ শব্দমূল থেকে। যার অর্থ হলো পড়া, পঠিত। দ্বিতীয়ত, ‘কারনুন’ শব্দমূল থেকে, যার অর্থ মিলন বা মিলিত। পবিত্র আল কোরআন যেহেতু সমগ্র বিশ্বে সর্বাধিক পঠিত গ্রন্থ এবং কোরআনের প্রতিটি আয়াত পরস্পর সম্পর্কযুক্ত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ বিধায় উভয় শব্দমূল যুক্তিযুক্ত। আজ থেকে সাড়ে চৌদ্দ শ বছর আগে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রাসুল (সা.)-এর ওপর সুদীর্ঘ তেইশ বছরে সমকালীন অবস্থা ও চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে জিব্রাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে যে আসমানি বাণী অবতীর্ণ করেছেন, তার সামষ্টিক ও সংকলিত রূপই আল কোরআন। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। ইসলামের প্রতিটি বিধান, দিকনির্দেশনা পবিত্র কোরআনের আলোকেই রচিত। কোরআন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রেরিত সব আসমানি গ্রন্থের সারনির্যাস। যুগজিজ্ঞাসার সূক্ষাতিসূক্ষ বিষয়াবলির অনুপম সমাধান এই গ্রন্থে নিহিত। পৃথিবীতে শান্তি-শৃঙ্খলা, ন্যায়-ইনসাফ, নিরাপত্তার বিধান কিংবা ফৌজদারি, দেওয়ানি তথা সব নিরপেক্ষ, সুষম ও সর্বজনীন নীতিমালায় চির ভাস্বর আল কোরআন। ফলে প্রতিটি যুগে জাতি, ধর্মবর্ণ-নির্বিশেষে সবাই স্বাগত জানিয়েছে এই ধর্মীয় গ্রন্থকে।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, পৃথিবীতে প্রচলিত বিভিন্ন ভাষায় প্রাচীন গ্রন্থগুলো বহুলাংশে দুর্বোধ্য, অবোধগম্যতায় পরিপূর্ণ। পক্ষান্তরে আল কোরআনের ছন্দের লালিত্য, শব্দের নিখুঁত চিত্রায়ণ, অলংকারপূর্ণ বাক্যশৈলী তৎকালীন আরব বিশ্বের বড় বড় সাহিত্যিকদের তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। হতবাক করে দিয়েছিল কাব্যামোদি কবিসম্রাট ও পণ্ডিতদের। পবিত্র কোরআনের রচনাশৈলীতে সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয় যে দিকগুলো, তার মধ্যে সবচেয়ে উলে­খযোগ্য দিক হচ্ছে : (১) সুর ও ছন্দময়তা, (২) ভাষা ও অলংকরণ, (৩) সঠিক বাক্যবিন্যাস, (৪) সুস্পষ্টতা ও সংক্ষিপ্ততা, (৫) প্রাঞ্জল বিবৃতি, (৬) যুক্তিপূর্ণ বাক্য, (৭) কাহিনীর অপূর্ব সমাবেশ, (৮) উপমা, উদাহরণের যথার্থ প্রয়োগ।

আল কোরআন কোনো ইতিহাস, উপন্যাস, গল্প, বিজ্ঞান কিংবা সাহিত্যের কোনো গ্রন্থ নয়; অথচ দৃষ্টিকোণভেদে একেকটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আলাদা আলাদা গ্রন্থ বলে বিবেচিত হয়। কোরআন শরিফের অন্যতম দুটি দিক সুর ও ছন্দ। ছন্দ শব্দটি চিন্তা করতেই আমরা ছড়া বা কবিতার দিকে চলে যাই, যদিও ছড়া-কবিতায় ছন্দ সীমাবদ্ধ নয়। মূলত আবৃত্তি করার সময় ধ্বনিপ্রবাহে যে সুললিত ও সুনিয়ন্ত্রিত একটি দোলার সৃষ্টি হয় তা-ই ছন্দ। তা হতে পারে গদ্যে-পদ্যে, এমনকি বিশ্ব প্রকৃতির সর্বত্রই। ছন্দের দোলা পাওয়া যাবে আকাশের বুকে ছড়িয়ে পড়া মেঘের ভেলায় কিংবা শূন্যে ভাসমান পাখির ডানায়। ছন্দের অন্যতম উপাদান হচ্ছে সুর। নিখুঁত ছন্দ থেকেই সুরের আবহ সৃষ্টি হয়। পবিত্র কোরআনুল কারিমে আছে সুরের মূর্ছনা, আছে ছন্দের লালিত্য। বান্দা যখন কোরআন তেলাওয়াতে বসে, তখন তার বাহ্যিক উচ্চারণে সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে পড়ে। যে সুরে আলোড়িত হয়ে মক্কার কাফেররা হয়ে যেত পাগলপারা। বিশেষত সুরা আশশামস, সুরা আদিয়াত, সুরা এখলাস, সুরা কাওসার ইত্যাদি এতই স্বাভাবিক ছন্দমাধুর্যে সমৃদ্ধ যে তা বুঝিয়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজনই হয় না। হজরত আবু তালিবের ইন্তেকালের পর রাসুল (সা.) তায়েফবাসীর কাছে দ্বীন প্রচার শেষে মক্কাভিমুখে যাত্রার পর ‘নাখলা’ নামক স্থানে অবস্থান করেন। ইয়েমেনের নসিমেন শহরের জিনদের এক প্রতিনিধিদল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অগোচরে সেখানে অবস্থানরত ছিল। শেষ রাতে রাসুল (সা.)-এর তাহাজ্জুদ নামাজের তেলাওয়াতে মুগ্ধ হয়ে পুরো দল ইসলাম কবুল করে। (মাজহারি)

আল্লাহ তাআলা হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে উম্মি ‘নিরক্ষর’ গুণে গুণান্বিত করেছিলেন, যাতে তৎকালীন আরবগোষ্ঠী কোরআনকে আসমানি গ্রন্থরূপে গ্রহণ করে। তা সত্তে¡ও ‘রাসুল (সা.) একজন কবি বা জাদুকর’Ñএ অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে কোরআন সুস্পষ্ট ঘোষণা করেছে-‘আমি তাকে কবিতা শিক্ষা দিইনি; আর তার জন্য তা শোভাও পায় না। এ তো একটি স্মারক, যা সুস্পষ্ট কোরআন হিসেবে অবতীর্ণ।’ (সুরা ইয়াসিন : ৬৯)

তবে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, এই কোরআন ছন্দের জাদু শেখানোর জন্য কিংবা সাহিত্যরূপে অবতীর্ণ হয়নি। একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান (Guid Book) হিসেবে তার আবির্ভাব। তবে একজন মানুষের সহজে বোধগম্য হওয়ার জন্য যে মনমানসিকতা কিংবা যে ধরনের কাব্যবিন্যাস, ছন্দমাধুর্য, প্রাঞ্জলতা দাবি রাখে, আল কোরআনে কেবল ততটুকু দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনের শ্রেণিবিন্যাস, শাব্দিক প্রয়োগ নিশ্চয়ই অলৌকিকত্বের দাবি রাখে। এখানে তার একটি সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো : পবিত্র কোরআনে পুরুষ (রিজাল) শব্দের পাশাপাশি নারী (নিসা) শব্দটি ২৪ বার, দুনিয়া ও আখেরাত প্রতিটি শব্দ ১১৫ বার, ফেরেশতা (মালাইকা) ও শয়তান প্রতিটি শব্দ ৮৮ বার, আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ (শুকর) ও বিপদ-আপদ (মুসিবত) প্রতিটি শব্দ ৭৫ বার করে এসেছে। তা ছাড়া হালালসূচক ২৫০টি, হারামসূচক ২৫০টি এবং আদেশসূচক ১০০০টি, নিষেধসূচক ১০০০টি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। গাণিতিক দৃষ্টিকোণ থেকে আরো ব্যাপক আলোচনা রয়েছে, এখানে লেখার পরিধির প্রতি দৃষ্টি রেখে সামান্য অংশ তুলে ধরা হলো। সাড়ে চৌদ্দ শ বছর আগে অবতীর্ণ হওয়া পবিত্র কোরআন এখনো তাগুতি শক্তির শত ফুৎকার, ইহুদি, বাহ্মণ্যবাদীচক্রের শত ষড়যন্ত্রের কালো জাল ছিন্ন করে সম্পূর্ণ অবিকৃত, অমলিন, অক্ষত অবস্থায় পৃথিবীর বুকে সদর্পে টিকে আছে। রাব্বুল আলামিনের হাতের নৈপুণ্যে গড়া এই কোরআনের মোকাবিলায় তাদের শত চেষ্টা বারবার ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। চাপা পড়ে যাবে ইমানদীপ্ত দাস্তানের রোশনাইতে।

আল কোরআন আমাদের ছন্দের শিক্ষক, সাহিত্যের সমালোচক, জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রবক্তা, সাধনার কেন্দ্রভূমি, সমগ্র মানবসভ্যতার হেদায়েতের চ‚ড়ান্ত নিশান। ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, পররাষ্ট্রনীতি, ক‚টনীতি কিংবা শাসননীতির নিখুঁত চিত্রায়ণের এক আশ্চর্য আলেখ্য হলো মহাগ্রন্থ আল কোরআন।

 

Download Link 1

Download Link 2

Download Link 3

Download Link 4

Download Link 5

Download Link 6

Download Link 7

Download Link 8

Download Link 9

Download Link 10

Download Link 11

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *